মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে ইসরায়েলে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দীর্ঘ সংঘাতের ২৫তম দফায় বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বিকালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) প্রথমবারের মতো তাদের বিধ্বংসী হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ’ ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করে।
হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব
আইআরজিসি-র সংক্ষিপ্ত বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এবারের অভিযানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ‘ফাতাহ’ এবং ব্যালিস্টিক ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে (ঘণ্টায় ৬,১৭৪ কিলোমিটার) ছুটতে পারে। এই প্রচণ্ড গতির কারণে প্রচলিত অনেক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই একে শনাক্ত বা ধ্বংস করতে হিমশিম খায়।
৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের হামলা: কাঁপছে উত্তর ইসরায়েল
শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১২টার দিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। প্রথম হামলার মাত্র চার ঘণ্টা পরই এই দ্বিতীয় দফার আক্রমণ চালানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আগমনে উত্তর ইসরায়েল জুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে এবং সাধারণ মানুষ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আয়রন ডোম ও অ্যারো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।
হামলার প্রেক্ষাপট: খামেনির শাহাদাত ও ইরানের প্রতিশোধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর থেকেই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর ধারাবাহিকতায় ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। যদিও সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে গত কয়েক দিনে ইরানের হামলার তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবে হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করে তারা নতুন শক্তির জানান দিচ্ছে।
যুদ্ধের মোড় কি ঘুরে যাচ্ছে?
ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী এই অস্ত্রটি ইসরায়েলের ‘মাল্টি-লেয়ার্ড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। পেন্টাগন ইতিমধ্যে জর্ডানে তাদের ‘থাড’ রাডার হারানোর পর এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন