ট্রাম্পের তেলের রাজনীতি ও ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের পর স্পষ্ট করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল এই হস্তক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো শীঘ্রই ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো মেরামতের কাজ শুরু করবে। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকেই ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, মাদুরো একটি ‘নার্কো-স্টেট’ বা মাদক রাষ্ট্র পরিচালনা করছিলেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার শাসনভার পরিচালনার জন্য ট্রাম্প তার নিজস্ব মন্ত্রিসভা থেকে লোক নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পানামার জেনারেল নরিয়েগার সেই স্মৃতি
ক্ষমতাসীন কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে নিজ দেশ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও অনেক বন্ধুপ্রতিম মিত্রকে প্রয়োজনের শেষে চরম শত্রুতে পরিণত করেছে। পানামার সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল ম্যানুয়েল নরিয়েগা ছিলেন এর অন্যতম উদাহরণ। সত্তর দশকে তিনি সিআইএর বেতনভুক্ত গুপ্তচর হিসেবে কাজ করলেও আশির দশকের শেষে তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ১৯৮৯ সালে ‘জাস্ট কজ’ অভিযানের মাধ্যমে পানামায় হামলা চালিয়ে তাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাদক পাচারের দায়ে তাকে দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।
সাদ্দাম হোসেন ও এরনান্দেজের পরিণতি
একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকেও। একসময় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগে ইরাকে সামরিক আগ্রাসন চালায় পশ্চিমা জোট। দীর্ঘ ৯ মাস আত্মগোপনে থাকার পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দাম হোসেনকে একটি ভূগর্ভস্থ গর্ত থেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীকালে ২০০৬ সালে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। এছাড়া লাতিন আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো এরনান্দেজকেও মাদক পাচারের দায়ে নিজ দেশ থেকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। নিকোলাস মাদুরোর এই গ্রেপ্তার বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার ফলে দক্ষিণ আমেরিকার এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন