মোটরসাইকেল বিক্রির সঙ্গে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে দুটি বিএসটিআই অনুমোদিত হেলমেট বিনামূল্যে দেওয়ার বিধান রেখে নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করছে সরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের জন্য এই বিশেষ নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এটি কার্যকর হলে প্রতিটি নতুন মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিক্রেতাকে অবশ্যই দুটি মানসম্মত হেলমেট ক্রেতাকে প্রদান করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা কমিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে সংঘটিত মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৭৩ শতাংশই ঘটে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে। এসব দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের একটি বড় অংশের বয়স ৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই তরুণ প্রজন্মকে অকাল মৃত্যু থেকে বাঁচাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না এবং বয়স পূর্ণ না হলে কাউকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। পুলিশ সদস্যদের প্রতিও এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
বিআরটিএ-র আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ অধিকাংশ সেবা অনলাইনে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি যেমন কমবে, তেমনি সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে। তবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল বিআরটিএ-র একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বিআরটিএ নোয়াখালী সার্কেলের আয়োজনে মোট ৪১টি পরিবারের হাতে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে নোয়াখালী জেলার ২১টি পরিবার পেয়েছে এক কোটি এক লাখ টাকা এবং লক্ষ্মীপুর জেলার ২০টি পরিবার পেয়েছে ৬৪ লাখ টাকা।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিআরটিএ-র পরিচালক রুবাইয়াৎ-ই-আশিক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মাসুদ আলমসহ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন