ঢাকা শহরের শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রে একটি অসংগতির চিত্র চোখে পড়ে—আর তা হলো মিরপুরে পাইকপাড়া সরকারি ডি-টাইপ কলোনিতে অবস্থিত মডেল একাডেমি স্কুলটি,যা সরকারি কলোনিতে থেকেও বেসরকারি রয়ে গেছে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় চার দশক ধরে কলোনিবাসী এবং এর আশেপাশে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের হাজার হাজার সন্তানের শিক্ষার আশ্রয় হয়ে আছে। কিন্তু এটি আজও একটি সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পায়নি। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি সরকারি কলোনির সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষের প্রতি এক ধরনের বঞ্চনা।
বর্তমানে স্কুলটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষকদের একটি অংশ সরকারি বেতন পান ঠিকই, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এর সব দায় মিটে গেল। সম্পূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অতিরিক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, এবং সর্বোপরি, শিক্ষার্থীদের বেতন ও ফি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সরকারি সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, কলোনির যে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশা করে, তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষার ব্যয়ভার অনেকটাই বেশি রয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলেছেন, সরকারি কলোনিতে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ে জাতীয়করণ করা উচিত। এটি কেবল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনবে না, বরং 'সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা' নিশ্চিত করার যে জাতীয় অঙ্গীকার, তাকেও শক্তিশালী করবে। একটি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে মডেল একাডেমি স্থানীয়ভাবে যে অবদান রাখছে, তাকে স্থায়ী ও টেকসই করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য।
এই বঞ্চনার অবসান হওয়া দরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উচিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজাল ছিন্ন করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত সরকারি করণের পদক্ষেপ নেওয়া। নতুবা, সরকারি কলোনির শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে এক ধরনের 'সরকারি বঞ্চনা'র শিকার হতে থাকবে, যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সাফল্যের পথে একটি বড় বাধা হয়ে থাকবে। মডেল একাডেমিকে সরকারি করা হোক—এটা সময়ের দাবি, নীতির দাবি এবং এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকারের দাবি।
-মোঃ ফারুক মিল্টন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন