আজ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে অকার্যকর থাকা এই প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুনভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায় এবার ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক উৎসবমুখর পরিবেশে।
নির্বাচনে একাধিক প্যানেল অংশ নিচ্ছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্বাধীন শিক্ষার্থীদের জোটও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, বিভিন্ন মতাদর্শ ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ ছাড়া নারী প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, যা ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র ও সমতার চর্চাকে আরও এগিয়ে নেবে।
সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজুড়ে এক ভিন্ন আবহ বিরাজ করছে। ভোটকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের সারি, ভোট প্রদানের উচ্ছ্বাস আর সহপাঠীদের নিয়ে আলোচনা—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস উৎসবের রূপ নেবে। প্রচারণা শেষ হলেও প্রার্থীদের সমর্থকরা নীরবে প্রার্থীর পক্ষে উপস্থিত থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।
শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, নির্বাচিত নেতৃত্ব ক্যাম্পাসের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আবাসন সংকট নিরসন, গ্রন্থাগার ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া—এসবই তাদের প্রধান প্রত্যাশা। অনেকের মতে, ডাকসু শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ নয়; এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তাই এখানে সঠিক নেতৃত্বের নির্বাচন হলে তার ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় পর্যায়েও পড়তে পারে।
ডাকসু নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার এক অনন্য মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। আজকের ভোটগ্রহণ শুধু প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং ছাত্র রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন